শীতের তীব্রতায় নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভরসা সেকেন্ডহ্যান্ড কাপড়
আপডেট সময় :
২০২৬-০১-১১ ১৮:৫২:২৪
শীতের তীব্রতায় নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভরসা সেকেন্ডহ্যান্ড কাপড়
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
শীতের তীব্রতা বাড়তেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার তথা সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে পুরোনো (সেকেন্ডহ্যান্ড) গরম কাপড়। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে নেমে এসেছে কনকনে ঠান্ডা। ভোর ও রাতের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
এই পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় শীতের নতুন কাপড়ের চেয়ে পুরাতন (সেকেন্ডহ্যান্ড) গরম কাপড়ই বেশি বিক্রি হচ্ছে। উপজেলাজুড়েই বিভিন্ন হাট-বাজার ও ফুটপাতে পুরাতন কাপড় বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার হাটবার গৌরীপুর পৌর শহর ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর বাজার সোনালী ব্যাংকের বিপরীতে ও মধ্যবাজার হারুন পার্ক সংলগ্ন ফুটপাত, ঝলমল সিনেমা হল মোড় সংলগ্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানে জমে উঠেছে পুরোনো কাপড়ের বাজার। বিক্রেতারা কাপড় বিক্রির জন্য হাঁক-ডাক ছাড়ছেন। অনেকেই নিজেদের কাজ-কর্ম সেরে বিকেলে পৌর শহরের উত্তর বাজার পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতের পোশাক কিনতে আসেন। শুধু স্বল্প আয়ের মানুষরাই নয়, কেনাকাটা করছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও স্বচ্ছল পরিবারসহ অনেকেই।
নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন কম দামে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় পাওয়ায় পুরাতন কাপড়ের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। জ্যাকেট, সোয়েটার, শাল, কম্বল, মাফলার, কানটুপি ও মোজাসহ—সব ধরনের গরম কাপড়ই পুরাতন বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কাপড়ের অর্ধেক দামে পুরাতন কাপড় কিনতে পারায় ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
ক্রেতা মোসলেম উদ্দিন (৫৫) বলেন, ঠান্ডা বেশি পড়ায় পুরোনো কাপড়ের দোকানে আসছি শীতের একটা কাপড় কিনতে। পছন্দ হলে ও দামে মিললে একটা জ্যাকেট বা স্যুয়েটার কিনবো।
সুলতানা খাতুন (৪০) বলেন,'বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনতে আসছি। দেখি যদি ভালো পাওয়া যায় তাহলে কিনবো। তবে হঠাৎ শীত পড়ে যাওয়ায় দোকানদারা দাম একটু বেশি নিচ্ছে।
বাসুদেব সরকার বলেন, ‘ভাই আসছি, যদি ভালো কিছু মিলে। এবার শপিংমলগুলোতে যাওয়াই মুশকিল। আমাদের হিসেবের টাকা। তাই এখানেই আসছি, শরীরে লাগলে ও দামে মিললে কিনে নিয়ে যাবো।'
পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকার পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরাতন কাপড়ের বিক্রি নতুন কাপড়কে ছাড়িয়ে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে তারাও বেশি করে পুরাতন গরম কাপড় তুলছেন।
কাপড় বিক্রেতা মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের কাছে ১শ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কাপড় আছে। প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হয়।
কাপড় ব্যবসায়ী মশিউর রহমান বলেন, নতুন কাপড়ের দাম একটু বেশি হওয়ায় পুরোনো কাপড়েই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। নতুন কাপড় কম বিক্রি হচ্ছে।
পৌর শহরের ঝলমল সিনেমা হল মোড় সংলগ্ন পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী তাজউদ্দিন ভূট্টো বলেন, আমার এখানে জাপান, তাইওয়ান, চায়না থেকে পুরোনো কাপড় আনা হয়। এখানে কাঁথা, কম্বল, কম্প্যুটারসহ শিশু, নারী ও পুরুষদের জন্য গরম কাপড় পাওয়া যায়। হতদরিদ্র, অসহায় মানুষদের আমি বিনামূল্যে গরম কাপড় দিয়ে থাকি।
উপজেলা ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রিজন বলেন, বর্তমান উর্ধ্বগতির বাজারে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তাই, শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা পুরোনো কাপড়েই ভরসা খুঁজছেন। শীত নিবারণে এসকল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সমাজের বিত্তবাণদের আহ্বাণ জানান।
অন্যদিকে, গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দিবাকর ভাট, শীতজনিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে প্রয়োজন অনুযায়ী গরম কাপড়, গরম জল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স